Loving মুভি রিভিউ Eng Subs

১৯৫৮ সাল, ভার্জিনিয়া। ক্যারোলিন কাউন্টি থেকে হঠাতই রাতে আঁধারে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায় রিচার্ড লাভিং এবং তার স্ত্রী মিল্ড্রেড লাভিং কে। তাদের অপরাধ ছিল তারা আলাদা বর্ণের হয়েও বিয়ে করেছে।

ভার্জিনিয়ায় আলাদা রেসের মানুষের মাঝে বিয়ের নিয়ম আইনগতভাবে অপরাধ হওয়ায় রিচার্ফ এবং মিল্ড্রেড ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু নিজেদের বাড়িতে ফেরত এসেও একসাথে থাকতে পারে না তারা। পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়, মামলা করা হয় তাদের বিরুদ্ধে। বিচারক রায় দেন অন্তত ২৫ বছর তারা ভার্জিনিয়া থাকতে পারবেন না। তারা চলে আসেন ওয়াশিংটন ডিসিতে।

১৯৬৭ সালের বিখ্যাত লাভিং ভার্সেস স্টেট মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড কে কেন্দ্র করে এই রোমান্টিক, বায়োগ্রাফি ড্রামা ফিল্ম তৈরি করা হয়। চমৎকার সুন্দর গল্পের সাজানো চিত্রনাট্যে পরিচালক জেফ নিকোলস এর কাজে খুব দারুণ সুন্দর একটা চলচ্চিত্র ‘লাভিং’।

মূল দুই চরিত্রে অভিনয় করেন জোয়েল এডগার্টন এবং রুথ নেগা। দুইজনেরই দারুণ সুন্দর অভিনয়ে একদম প্রথম দৃশ্যটা থেকে মুভিটা একবারে দেখার আগ্রহ পাওয়া যায়। সাদা চামড়ার রিচার্ড আর কালো চামড়ার মিল্ড্রেড এর চরিত্রে দুইজনের রোমান্টিক কেমিস্ট্রি, স্ট্রং পারফর্মেন্স খুব সুন্দর একটা ছবি উপহার দিয়েছেন।

দারুণ কাহিনীর সাথে দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কারনে বেশ ক্লাসিক স্টাইল ভাব আসে। সাথে ক্লাসিক গান ব্যবহারের কারণেও। আরেকটা বেশ ভালো দিক ‘কানে লেগেছে’, সেটা সাউন্ডের কাজ। প্রতিটা অবজেক্ট-সাউন্ড এর খুব নিখুঁত কাজ ছিল। সাথে ক্যামেরার কাজও দেখার মতো ছিল।

বেশ হোমওয়ার্ক করে কাজ করা হয়েছে এখানে। ৬০ এর দশকে গাড়ি, বিল্ডিং, কান্ট্রিসাইড এর বিল্ডিং স্ট্র্যাকচার কিংবা ফার্নিচার; সব দিকেই খেয়াল রাখা হয়েছিল।

ক্যামেরার কাজ, লোকেশন, স্ক্রিপ্ট আর সাবজেক্ট ম্যাটারের জন্যে অনেকে অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের জন্যে আশা করলেও শুধুমাত্র রুথ নেগা তার দারুণ পারফর্ম্যান্সের কারণে নমিনেশন পেয়েছিলেন।

আমি শুধু চিন্তা করলাম কী অদ্ভুত আর সুন্দরভাবে এই দুইজনের নামের সাথেই লাভিং জড়িয়ে আছে, যেখানে তাদের ভালোবাসার কারণেই কিনা এক ঐতিহাসিক ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু একটা ছবির নামের শুধু ব্যবহারের জন্যে নয়, তাদের জীবনের পুরোটা জুড়েই যেন ভালোবাসা আর ভালবাসা এই তাদের নামের মতোই।

যাইহোক, আমার কাছে মুভিটি বেশ লেগেছে। মুভিটিকে রিচার্ড আর মিল্ড্রেডের মধ্যেকার সম্পর্কটি আসলেই চমৎকার ছিলো। লুতুপুতু প্রেম নয়, সত্যিকারের ভালবাসার শক্তিশালী বাঁধন, পরস্পরের প্রতি ওয়াদাবদ্ধতা এবং পরিবার, বন্ধুবান্ধব , সমাজ,আইন এসব সবকিছুকে কি করে নিজেদের সম্পর্কের আগে মাথা ঝুঁকিয়ে তাকে মেনে নিতে হয় তা মুভিটিতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

Leave a Comment