Blue is the warmest color-Movie রিভিউ – (R-Reted) Eng Subs

হ্যালো সিনেলাভার গাইজ ,প্রতিবারের মতই আমি আজও আবার এপিক মুভি নিয়ে হাজির হয়েছি,আজকে যে মুভিটা নিয়ে আপনাদের বলবো তা আমার দেখা এখন পর্যন্ত বেস্ট এপিক রোমান্টিক মুভি।রোমান্স এর লেভেল অন্য একেবারে অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে।

স্কুল পড়ুয়া শান্তশিষ্ট লাজুক প্রকৃতির মেয়ে আদেলের জীবনে প্রেম, বিচ্ছিন্নতা আর একাকীত্ব নিয়ে নির্মিত Blue is the warmest color মুভি। সাধারণ রোম্যান্টিক মুভি থেকে ভিন্নতা একটাই – লাভ অ্যাট ফাস্ট সাইট একটা মেয়ের সাথে। স্কুলে সহপাঠীদের চাপে পড়ে আদেল সম্পর্ক করে একটা ছেলের সাথে ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে শূন্যতায় ভুগতে থাকে কিসের যেন। রাস্তা পার পার হতে হতে এক নজর চোখাচোখি হওয়া সেই নীল চুলওয়ালীর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে আদেল। একসময় পেয়েও যায়। সম্পর্ক হয়। কিন্তু স্কুল, সমাজ, পরিবার ওদের সাথে কিভাবে ডিল করবে ব্যাপারটা সে ?

Blue is the warmest color ৩ ঘন্টা লম্বা একটা এপিক রোমান্স ফিল্ম। কন্ট্রোভারশাল এই ইস্যুটা নিয়ে অনেক সিনেমা হয়ে থাকলেও এটা সেগুলার মাঝে সেরা উপাধি পেতে পারে অভিনয়, পরিচালনা, সিনেমাটোগ্রাফি আর রিয়েলিজমের জন্য। পুরুষ পরিচালক আব্দেল্লাতিফ কাশিশ ৮ ঘন্টার ফুটেজ নিয়েছিলেন। প্রতিটা দৃশ্য এখানে সাধারণ মুভির চেয়ে লম্বা। কথোপকথনগুলা এত বড় বড় যে অনেক সময়ই হারিয়ে গেছি, কেননা সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে হয়।একটা জিনিসই টেনে ধরে রেখেছিল – মূল চরিত্র আদেল এর অভিনয়, অভিব্যাক্তি, সরলতা, মায়া, মোটা ঠোঁট, কিশোরী চোখ আর গুল্লু গুল্লু ভাব। আহা। পুরাই অবসেসড হয়ে ছিলাম যতক্ষণ স্ক্রিনে ছিল সে। প্রায় ৮০ শতাংশ সময়ই এই কিউট মেয়েটার সঙ্গ পেয়েছি স্ক্রিনে।

লেসবিয়ান মুভিগুলায় খুব হট হট মেয়েরা অভিনয় করলেও এখানে কেউই সেরকম হট না, যদিও আদেলের বিপরীতে লি সিউডেক্স টমবয় পুরাই, তাই কেমিস্ট্রিটা মনে ধরেছে। এটা আসলে দুজনের লাভ স্টোরি কম, আদেলের বায়োগ্রাফি বেশি। বইটারও নাম ছিল “Marrian’s life”, ওখানে মারিয়ান ছিল আদেল।

মুভিটা নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছে সেক্স সিঙ্গুলার দৈর্ঘ্য এবং ইন্টেন্সিটির আধিক্যে। অনেক বেশি খোলামেলা, এতটা মেইনস্ট্রিম ফিল্মে SHAME এও দেখানো হয়নি। বিশেষ করে প্রথম লেসবিয়ান সেক্স সিনটা একটা ছোটখাটো পর্ণ ফিল্ম। নেগেটিভলি না বলে পজিটিভলিই নেব এটা আমি। কেননা পরিচালক দুটা মেয়ের পরস্পরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ আর পাগলামিটাই স্ক্রিনে ঠিকমত ফোটাতে চেয়েছেন , তাই এত লম্না, আর এত ডিটেইলড সেক্স। পর্ণপ্রেমীরা হয়ত আমার রিভিউ পড়ে এখনই নামাতে দিয়ে দেবেন মুভিটা, তাদের ক্ষেত্রে বলে রাখি, দৃশ্যটা যথেষ্ট রিয়েলিস্টিক মনে হলেও আসলে মেকি বা “simulated”। তবু প্রথম আমি টার্ন হয়েছিলাম অজান্তেই হয়ত আদেলকে দেখেই। কিছু একটা আছে মেয়েটার মাঝে, এই অভিনেত্রীকে আরও দেখতে হবে। হলিউড হলে এখানে একজনকেই এখন কল্পনা করা যায় – শেইলেন উডলি। যাই হোক, অনেকের আরও অভিযোগ প্রথম সেক্সেই আদেলকে প্রফেশনাল বেশি মনে হয়েছে। কথা সত্য।

তবে ফ্রেঞ্চরা আসলেই ডেয়ারিংরে।এদের মুভি দেখার আগে আঁট-গাঁট বেঁধে বসাই ভালো। এরা বেশি খুল্লাম খুল্লা দেখায় সবকিছু।

তিনটা ভাগে বিভক্ত মুভির আরেকটা স্পেশালিটি গল্পবলিয়ে(স্টোরি টেলিং), কোন ফ্লাশব্যাক, বা টাইমস্কিপ নেই। অভিনেত্রীদের চুলের স্টাইল আর সামাজিক বোঝাপড়া দিয়ে সময়ের বয়ে যাওয়া সহজেই বোঝা যায়। তাই কখন আদেল স্কুল শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছে, কখন নিজেদের লেসবিয়ানিজমের সাথে সামাজিকভাবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, ফ্লো টা স্বাভাবিক মনে হয়েছে। যদিও টাইম লেন্থের কারণে প্রায়ই অন্নমনস্কতা চলে আসবে। কিছু কথাবার্তা, দৃশ্য চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলেও যেতে দেয়া যায়। বেশি গুরুত্ব বহন করেনা।

এটা একজন সাহিত্যের ছাত্রী – নার্সারি স্কুলটিচার আদেলের জার্নি অফ লাভ। প্রথম প্রেম, লেসবিয়ানিজমের উপলব্ধি, সঙ্গীপ্রাপ্তি এবং সঙ্গীবিচ্ছেদ পরবর্তী জীবনের গল্প। মুভিটা পরে কি হয় জানার একটা আকুতি রেখে শেষ হয়।আমার মনে হয় জার্নিটা আরেকটু লম্বা হলেও চলত।

আমার দেখা অন্যতম বেস্ট এপিক রোমান্টিক মুভির লিস্ট করলে আমি এটাকে উপরের দিকেই রাখবো।

সো আর দেরি কেন?রোমান্টিক প্রেমিরা নড়ে চড়ে দেখতে বসে যান আর হারিয়ে যান আদেলের ভালোবাসার জার্নিতে।
আর হ্যা জার্নিতে ঢুব দেবার আগে অবশ্যই লাইক  কমেন্ট করতে ভুলবেন না!

Leave a Comment